তলোয়ার দিয়ে দাড়ি চাঁছা! রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তীতে অভিনব আলোচনার আয়োজন করল ABTA
![]() |
| রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তী, নিখিল বঙ্গ শিক্ষক সমিতি, ABTA, রুনা চট্টোপাধ্যায়, যাদবপুর |
তলোয়ার দিয়ে দাড়ি চাঁছা! রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তীতে অভিনব আলোচনার আয়োজন ABTA-র পক্ষ থেকে।
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বাঙালির মননে ও সংস্কৃতিতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং কাজী নজরুল ইসলাম ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে। এই দুই যুগপুরুষের জন্মজয়ন্তী উদযাপনে এবার এক অভিনব উদ্যোগ নিল নিখিল বঙ্গ শিক্ষক সমিতি (ABTA)।আগামী ৩১শে মে, রবিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা শাখার ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠিত হতে চলেছে 'রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তী পালন' উৎসব। অনুষ্ঠানটিতে কেবল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানই থাকছে না, থাকছে একটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় ও চিন্তাশীল আলোচনা সভা।
সকাল সাঝে নিত্য-কাজে
সংশয়ে সংকটে
প্রেম বিরহেও ভরসা রবি
পারের কড়িও বটে। [পুরো কবিতাটি পড়তে চান? এখানে দেখুন। ]
বিশ্ব বাঙালির জীবনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রভাব কতটা তা বুঝতে এই স্তবকটি আমাদের কাছে পারের কড়ির মতই মূল্যবান। তাঁর জন্ম জয়ন্তী উপলক্ষে তাঁর লেখা দিয়েই তাকে বরণ করার আয়োজন করেছে নিখিল বঙ্গ শিক্ষক সমিতির দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা শাখা।
মূল আকর্ষণ: 'তলোয়ার দিয়ে দাড়ি চাঁছা'
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে থাকছে একটি মনোজ্ঞ আলোচনা সভা। এই সভার জন্য যে বিষয়টি নির্বাচন করা হয়েছে, তা এককথায় চমকপ্রদ ও ব্যতিক্রমী— "তলোয়ার দিয়ে দাড়ি চাঁছা"। আপাতদৃষ্টিতে হাস্যরসের আড়ালে, কৌতূহলোদ্দীপক বিষয়ের গভীরে লুকিয়ে থাকা সাহিত্য ও বর্তমান সামাজিক সংকটের প্রেক্ষাপট উন্মোচন করতেই এই বিশেষ আয়োজন সভা।
'তলোয়ার দিয়ে দাড়ি চাঁছা' হলো কবি কাজী নজরুল ইসলামের বিখ্যাত ব্যঙ্গাত্মক কবিতা 'আমার কৈফিয়ত'-এর একটি অবিস্মরণীয় পঙ্ক্তি।
"গুরু ক'ন, তুই করেছিস শুরু তলোয়ার দিয়ে দাড়ি চাঁছা!
কবিতাটিতে নজরুল তাঁর নিজের স্বভাব, আদর্শ ও জীবনযাপনের সমালোচকদের জবাব দিতে গিয়ে এই রূপকটি ব্যবহার করেছিলেন। তৎকালীন রক্ষণশীল সমাজ তাঁর বিদ্রোহী ও প্রথাবিরোধী মনোভাবকে যেভাবে বাঁকা চোখে দেখত এবং তাঁকে নিয়ে নানা কানাঘুষা করত, তার একটি চমৎকার ও শ্লেষাত্মক চিত্র ফুটে উঠেছে তাঁর এই লেখায়।
নজরুল এই পঙ্ক্তির মাধ্যমে বুঝিয়েছেন, তিনি প্রচলিত নিয়ম-কানুন ও বাঁধা ধরা পথে চলেন না। তাঁর কলম ও জীবনযাপন যেন 'তলোয়ারের' মতো ধারালো, যা প্রথাগত বা সনাতন সবকিছুকে (যা এখানে দাড়ির মতো স্বাভাবিক ও নিয়মমাফিক বিষয় হিসেবে প্রতীকী অর্থে ব্যবহৃত) আমূল বদলে ফেলার বা আঘাত করার দুঃসাহস রাখে।
'আমার কৈফিয়ত' কবিতাটিতে নজরুলের ব্যক্তি-অহম, তাঁর প্রেম, বিদ্রোহ এবং বাংলা সাহিত্যে তাঁর অনন্য অবদানের এক অকপট স্বীকারোক্তি রয়েছে। আর কোন কোন দিক উন্মোচিত হতে চলেছে এই মনোজ্ঞ আলোচনায়? জানতে হলে চলে আসুন দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা অফিস প্রাঙ্গণে।
প্রধান আলোচক : রুনা চট্টোপাধ্যায়
উক্ত বিষয়ে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন কলকাতার হরিমোহন ঘোষ কলেজের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর রুনা চট্টোপাধ্যায়। তাঁর ক্ষুরধার বিশ্লেষণ ও আলোচনা অনুষ্ঠানটিকে এক অন্য মাত্রা দেবে বলে আশাবাদী উদ্যোক্তারা।
এক নজরে অনুষ্ঠানের সময় ও স্থান
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| অনুষ্ঠান | রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তী পালন: সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভা |
| তারিখ | ৩১শে মে, ২০২৬ (রবিবার) |
| সময় | বিকেল ৪টে ৩০ মিনিট |
| স্থান | এবিটিএ (ABTA), দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা অফিস, যাদবপুর |
| আয়োজক | নিখিল বঙ্গ শিক্ষক সমিতি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা শাখা |
আলোচনা সভার পাশাপাশি রবীন্দ্র ও নজরুল সংস্কৃতির মেলবন্ধনে সাজানো একটি মনজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও পরিবেশিত হবে এই সন্ধ্যায়। নিখিল বঙ্গ শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অনুষ্ঠানটি সকলের জন্য উন্মুক্ত এবং সমস্ত সাহিত্য ও সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষকে এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য সাদর আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। রবি-নজরুলের সৃষ্টিকে নতুন আঙ্গিকে ছুঁয়ে দেখার এই সুযোগ হাতছাড়া করতে চাইছেন না শহরের সংস্কৃতিমনস্ক নাগরিকরা।
----------xx--------

