Press Release: অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত সমস্ত কর্মরত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের টেট উত্তীর্ণ হওয়া বাধ্যতামূলক

Ali Hossain
By -
0

Press Release : অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত সমস্ত কর্মরত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের টেট উত্তীর্ণ হওয়া বাধ্যতামূলক

নিখিল বঙ্গ শিক্ষক সমিতি

স্থাপিত-১৯২১
সত্যপ্রিয় ভবন
পি-১৪, গণেশচন্দ্র এভিনিউ, কলকাতা-১৩

১) প্রেস রিলিজ, তারিখ - ৩০/০৫/২০২৬ : কর্মরত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের টেট উত্তীর্ণ হওয়া বাধ্যতামূলক

তারিখঃ ৩০/০৫/২০২৬

সুপ্রিম কোর্ট ২০২৫ সালে ১ সেপ্টেম্বর রায় প্রদান করে প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত সমস্ত কর্মরত শিক্ষক-শিক্ষিকা যাঁরা এখনও টেট উত্তীর্ণ নন, আগামী ২ বছরের মধ্যে টেট পাশ করতে হবে। ব্যর্থ হলে বাধ্যতামূলক অবসর বা চাকরিচ্যুতির মুখোমুখি হতে হবে। এই রায় সারা দেশে আনুমানিক ২০ লক্ষের বেশি শিক্ষক শিক্ষিকারা সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গ সহ বহু রাজ্যের শিক্ষক সমাজে গভীর উদ্বেগ ও আশঙ্কার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এবং সেই রায়ে এটাও উল্লেখ করা হয়েছে অবসরের ৫ বছরের কম বাকি থাকলে তাঁরা ছাড় পাবেন। আমরা এটাও লক্ষ্য করেছি, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী (পূর্বে) আশ্বাস দিয়েছিলেন কোনো কর্মরত শিক্ষক / শিক্ষিকাকে টেট দিতে হবে না। কিন্তু এই আশ্বাস এখন প্রশ্নের মুখে। এই রায়ের বিরুদ্ধে এ.বি.টি.এ., এস টি এফ আই-র মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টে রিভিউ পিটিশন দায়ের করেছিল। রাজ্য সভার সাংসদ জন ব্রিটাস কর্মরত শিক্ষকদের সুরক্ষার জন্য সংসদে বেসরকারি বিল উত্থাপন করেন।

মধ্য প্রদেশ, উত্তর প্রদেশ, ওড়িষা, পশ্চিমবঙ্গ ও একাধিক রাজ্য সরকার রায়টি পুনর্বিবেচনার জন্য সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানিয়েছিল। আমাদের রাজ্যে এ বি পি টি এ সুপ্রিম কোর্টে রিভিউ পিটিশন দাখিল করেছিল। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে ২০১৭ সালে এন সি টি ই-র Amendment বাতিল করার মধ্য দিয়ে শুষ্ঠু সমাধান করা সম্ভব। এ ছাড়াও ইতিমধ্যে এন সি টি ই-র টেট সংক্রান্ত ২৩ নম্বর ধারার ১ এবং ২ উপধারাকে চ্যালেঞ্জ করে এলাহাবাদ হাইকোর্টে মামলা রুজু হয়েছে। আগামী জুলাই মাসের মধ্যে এটর্নি জেনারেলকে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য এলাহাবাদ হাইকোর্ট আদেশ জারি করেছে। আর টি ই আইনের মূল কথা এই টেট্ দেওয়ার বাধ্যতামূলক বিষয়টির মূল চেতনার বিরোধী হয়ে দাঁড়াচ্ছে। বছরের পর বছর নিষ্ঠার সাথে শিক্ষকতা করেছেন, যেমন অভিজ্ঞ শিক্ষক, শিক্ষিকাদের পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হচ্ছে এটা খুবই বেদনাদায়ক বিষয় বলে আমরা মনে করি।

এই প্রেক্ষিতে নিখিল বঙ্গ শিক্ষক সমিতি (এবিটিএ)র দাবি :

১) ২০২৬ সালে দেশের সর্বোচ্চ আদালত টেট্ সংক্রান্ত যে রায় ঘোষণা করেছে, বর্তমানে কর্মরত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের এই রায়ের আওতার বাইরে রাখা হোক। পরবর্তী কালে যে শিক্ষক-শিক্ষিকারা কর্মে যুক্ত হবেন তাঁদের ক্ষেত্রে এই রায় কার্যকরী করা হোক। আমরা আশা করি কেন্দ্রীয় সরকার ও রাজ্য সরকার এ বিষয়ে সদর্থক ভূমিকা পালন করবে এবং কার্যকরী করতে উদ্যোগ গ্রহণ করবে।

২) কেন্দ্রীয় সরকার ও রাজ্য সরকারকে সুপ্রিম কোর্টের রায়কে পুনর্বিবেচনা করার জন্য কিউরেটিভ আইনের পথে যেতে হবে।

৩) জন ব্রিটাসের বেসরকারি বিলকে সরকারি বিলে রূপান্তরিত করে সংসদে পাস করাতে হবে।

8) শিক্ষামন্ত্রীর আগের যে প্রতিশ্রুতি তাকে বাস্তবায়ন করতে হবে এবং আইনি সুরক্ষায় পরিণত করতে হবে।

সুজিত দাস,
সাধারণ সম্পাদক
নিখিল বঙ্গ শিক্ষক সমিতি।
কোল-১৩ এ


নিখিল বঙ্গ শিক্ষক সমিতি।

স্থাপিত- ১৯২১
সত্যপ্রিয় ভবন
পি-১৪, গণেশচন্দ্র এভিনিউ, কলকাতা-১৩

২) প্রেস বিবৃতি : বুথ লেভেল অফিসার (BLO) হিসেবে নিযুক্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের অন্নপূর্ণা মহিলা যোজনার ফর্ম পূরণ ও তথ্য সংগ্রহের কাজে নিয়োগ

তারিখঃ ৩১/০৫/২০২৬

সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার, নির্বাচন কমিশন কর্তৃক বুথ লেভেল অফিসার (BLO) হিসেবে নিযুক্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের অন্নপূর্ণা মহিলা যোজনার ফর্ম পূরণ ও তথ্য সংগ্রহের কাজে নিয়োগ করার উদ্যোগ নিয়েছে। নিখিল বঙ্গ শিক্ষক সমিতি (এবিটিএ) এই সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে এবং এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে।

আমরা মনে করি, বিএলও একটি নির্বাচন কমিশন নির্ধারিত দায়িত্ব। সেই পদ বা পরিচয় ব্যবহার করে রাজ্য সরকারের কোনো প্রকল্পের কাজ করানো নীতি বিরুদ্ধ ও সাংবিধানিক ভাবে প্রশ্নযোগ্য। নির্বাচন কমিশন একটি স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান; তার নির্ধারিত দায়িত্বপ্রাপ্ত পদকে ব্যবহার করে রাজ্য সরকার নিজস্ব প্রশাসনিক কাজ করাতে পারেনা। এভাবেই সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির স্বতন্ত্রতা ও মর্যাদা ক্ষুন্ন হয়।

একই সঙ্গে আমরা স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, শিক্ষক সমাজ জাতি গড়ার কারিগর। যাঁদের শ্রেণিকক্ষে পাঠদান, শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন ও ভবিষ্যৎ নির্মাণের কাজে নিয়োজিত থাকার কথা। তাঁদেরই বারবার বিভিন্ন প্রশাসনিক প্রকল্পের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। যা করার কথা ভিন্ন দপ্তরের কর্মচারী আধিকারিকদের। এর ফলে শিক্ষার সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা ব্যাহত হচ্ছে এবং সবথেকে

ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষার অধিকার। আমরা স্মরণ করে দিতে চাই ভুলের পুনরাবৃত্তি কখনও ঐতিহ্য হতে পারে না। অতীতেও শিক্ষকদের নানা শিক্ষা বহির্ভূত কাজে নিয়োজিত করা হয়েছিল, কিন্তু সেই ভুলকে আরও বিস্তৃত করা কোনো ভাবেই গ্রহণ যোগ্য নয়।

এই প্রেক্ষিতে নিখিল বঙ্গ শিক্ষক সমিতি (এবিটিএ)র দাবি :

১) অন্নপূর্ণা মহিলা যোজনার ফর্ম পূরণের কাজে শিক্ষকদের নিয়োগ অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।

২) শিক্ষকদের শিক্ষা বহির্ভূত কাজে নিয়োগ-প্রবণতা বন্ধ করতে হবে।

৩) শিক্ষণ-শিখন ও শিক্ষার সামগ্রিক মানোন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।

8) নির্বাচন কমিশনের BLO পদমর্যাদা ব্যবহার করে অন্য প্রশাসনিক কাজ করানো বন্ধ করতে হবে।

সুজিত দাস,
সাধারণ সম্পাদক,
নিখিল বঙ্গ শিক্ষক সমিতি (এবিটিএ)

------------xx-----------

Post a Comment

0 Comments

Post a Comment (0)
3/related/default